সুইংয়ের শিল্প বাঁচাতে কামিন্সের আকুতি

0
179

করোনায় কী পেলাম আর কী হারালাম—এই প্রশ্নটা যদি করা হয় ব্যাটসম্যান ও বোলারদের?

খুশিতে টগবগ করে ব্যাটসম্যানরা হয়তো উত্তর দেবেন—করোনা-পরবর্তী টেস্ট ক্রিকেট আমাদের ব্যাটে দেবে রানের স্রোত! কারণ, থুতু দিয়ে বল উজ্জ্বল করা যাবে না বলে ফাস্ট বোলারদের প্রধান অস্ত্র সুইংটাই তো আর থাকছে না! বোলাররা কী বলবেন সেটা তো বুঝতেই পারছেন, নিজেদের প্রধান অস্ত্র হারিয়ে ফেলার আক্ষেপ ঝরে পড়বে।

আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্সের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সত্যিকার অর্থেই আক্ষেপ ঝরে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার প্যাট কামিন্সের কণ্ঠে। করোনা সংকট কাটিয়ে ক্রিকেট আবার মাঠে ফিরলেও আপাতত বল উজ্জ্বল করতে ফাস্ট বোলাররা লালা বা ঘাম ব্যবহার করতে পারবেন না। করোনার সংক্রমণ এড়াতে সম্প্রতি এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস (এআইএস)। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা আবার অনুশীলনে ফেরা থেকেই মানতে হবে নতুন এই নিয়ম।

এমন নিয়মে মোটেই খুশি হতে পারেননি আইসিসির টেস্ট বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকা কামিন্স। কেকআরডটইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এবারের আইপিএলে সবচেয়ে বেশি দামের (১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি) ক্রিকেটার বলেছেন, ‌’একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে বল উজ্জ্বল করার অধিকার আমার আছে।’

ফাস্ট বোলাররা বল উজ্জ্বল করতে না পারলে সুইং, রিভার্স সুইং করাতে পারবে না। এতে টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য অনেকটাই খসে পড়বে বলে মনে করেন কামিন্স, ‌’টেস্ট ক্রিকেট কেন সবাই পছন্দ করে? কারণ এর অনেক শৈল্পিক দিক আছে। এখানে সুইং বোলার থাকে, স্পিনার থাকে; আসলে টেস্ট ক্রিকেটকে শিল্পিত করে তুলতে যা যা প্রয়োজন, এর সবই খেলাটিতে থাকে।’

যে উপাদানগুলো টেস্ট ক্রিকেটকে এমন শিল্পের রূপ দেয়, সেগুলো কেড়ে নিলে আর থাকলটা কী! এমন আক্ষেপই করেছেন কামিন্স, ‌’বল উজ্জ্বল করতে না পারলে সুইং থাকবে না, থাকবে না রিভার্স সুইং। ব্যাটসম্যানদের রান করতে না পারার আর কোনো কারণ থাকছে কি!’ ‌তাহলে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিতে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলো? আসলে আয় আর লাভ ঠিক রাখতেই দ্রুত মাঠে ক্রিকেট ফেরাতে ব্যস্ত তারা!

কামিন্স অবশ্য মনে করেন বোর্ডগুলো চাইলেও এত দ্রুত ক্রিকেট মাঠে ফেরানো সম্ভব হবে না, ‌’নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। তবে যদি এমন উদ্বেগ থাকে যে আমরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারি…তাহলে আমাদের খেলাই উচিত হবে না।’
লালা বা ঘাম মাখানো নিষিদ্ধ হলেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কোকাবুরা বলের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য বিকল্প পদ্ধতি আনার কথা বলেছে। তারা বিশেষ ধরনের একটি মোমের প্রলেপ তৈরি করবে, যা দিয়ে বল উজ্জ্বল করা যাবে। ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থা এমসিসি সবুজসংকেত দিলেই আবিষ্কারটি সামনে নিয়ে আসবে কোকাবুরা। কামিন্সও মনে করেন দ্রুতই কোনো বিকল্প আসা প্রয়োজন, যাতে করে ফাস্ট বোলারদের বল সুইং করানোর শিল্পটা বেঁচে থাকে, ‌’আরেকটি বিকল্প নিয়ে আসুক তারা। হোক লালা বা অন্য কিছু, বল উজ্জ্বল করাতেই হবে আমাদের। যাতে করে সুইংটা করানো যায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here