রিক্সা উপহার দিলেন আকরাম, বেঁচে গেলো একটি পরিবার

0
132

 

চঞ্চল খান :
গত ১৪ এপ্রিল ১ম রমজান শুরুর   দিনে চোর রিক্সা নিয়ে গেলে মানিক মিয়া গগনবিদারী কান্নায়ভেঙে পড়েন, উপার্জনের একমাত্র  সম্বল রিক্সা হারিয়ে বিপাকে দিনমজুর মানিক।

মানিক মিয়ার এক ছেলে, দুই মেয়ের বাবা। সবাই লেখাপড়া করে। বাড়ি কিশোরগঞ্জ হলেও দীর্ঘদিন পরিবার নিয়ে বসবাস করেন গাজীপুর সিটির উত্তর ছায়াবীথি এলাকায়।
কিস্তিতে নেওয়া একটি রিক্সা ছিল তার উপার্জন ও বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল মানিক মিয়ার আহাজারি ,কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেনি কিন্তু ঠিকই গাজীপুরের মানবিক মানুষ আকরাম হোসেন বাদশা অসহায়  মানিকের পাশে দাঁড়ান এবং ভরসা দেন আমি তোমার পাশে আছি তোমার হারিয়ে যাওয়া রিক্সা হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারব না কিন্তু তোমাকে আরেকটি রিক্সার ব্যবস্থা করে দেবো।রিক্সা উপহার
আকরাম হোসেন বাদশা  তাৎক্ষণিক মানিককে ডেকে সব কিছু জেনে একটি নতুন  রিক্সা তৈরি করে দিতে   ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নতুন রিক্সা তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।

এ বিষয়ে আকরাম হোসেন বাদশা বলেন, সারারাত নিজের মৎস খামারের কাজ শেষে দুপুরে বাসায় এসে সবেমাত্র বিছানায় ক্লান্ত শরীর টা এলিয়ে দিয়েছি ঘুমাতে। কিছুক্ষণ পরই ঘুম ভেঙে যায় আকস্মিক কান্নার শব্দে, আর আমিও তৎক্ষণাৎ তড়িৎ গতিতে বাইরে ছুটে আসি। জানতে পারি যে আমার বাসার কাজের মেয়ের বাবার(মোঃমানিক মিয়া)  অটোরিকশা চুরি হয়েছে।

খবরটি শোনার পর থেকে বিষণ্ন মনটাকে কোনোভাবেই শান্ত করতে পারছিলাম না। শেষমেশ সন্ধ্যায় ইফতারের পর মানিক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলাম ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে । ২ মেয়ে ও ১ ছেলে সহ মোট ৫ জনের পরিবারের একমাত্র আয়ের সম্বল ছিল চুরি হয়ে যাওয়া অটোরিকশাটি। উপরন্তু অটোরিকশাটি ক্রয় করেছিলো ৪২ হাজার টাকার ইনস্টলমেন্টে, যার অর্ধেক তখনো বকেয়া ছিলো। অর্থাৎ মরার উপর খারার ঘাঁ।

পুরো ঘটনা এবং মানিক মিয়ার আহাজারি শুনে আল্লাহর উপর ভরসা করে মুহূর্তেই তাকে একটি নতুন অটোরিকশা কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এবং নিয়ত অনুযায়ী আজ বিকেলে মানিক মিয়ার কাছে নতুন একটি অটোরিকশা উপহার দিয়ে তার হাস্যোজ্জ্বল চেহারা দেখে নিজের মনটাও শান্ত করলাম।

সেই রিক্সাটি তৈরি শেষে ২১ এপ্রিল বিকেলে   আকরাম হোসেন বাদশা মানিকের হাতে নতুন রিক্সাটি তুলে দেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here