বাংলাদেশ কি ধর্মীয় বিভক্তির রাষ্ট্র, নাকি আধুনিক রিপাবলিক

0
322

মোঃ সরওয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস

ফেসবুক এবং বিভিন্ন অন লাইন পত্রিকায় গত ৭ নভেম্বর/২০ তারিখের ঈশ্বরদীতে “হিন্দু মহাজোট” এবং ” হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ” এর ডাকে মানব বন্ধন কর্মসুচীর খবর পড়লাম। মানব বন্ধনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শহিদুন্নবী নামের একজন মুসলিম হত্যা, একজন হিন্দু ছাত্রের ছাত্রত্ব বাতিল এবং জনৈক হিন্দু অধ্যাপককে হত্যার হুমকির বিচার সহ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা মন্ত্রনালয় গঠনের দাবী করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দাবীদার সদস্যগন এদেশের নাগরিক হিসাবে তাদের জীবন জীবিকার দাবী না করে হিন্দু,বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টান হিসাবে আলাদা সুরক্ষা দাবী করার পিছনে যুক্তি কি? তাহলে কি ধরে নেব বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রে কোন নাগরিক নাই তাই এই রাষ্ট্র মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ,খৃষ্টান ইত্যাদি ধর্মীয় পরিচয়ে বিভক্ত জাতি রাষ্ট্র।
আমাদের মনে রাখতে হবে জাতি, ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে “সাম্য, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ” নামক চেতনা লালন করেই ত্রিশ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি” সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয়। আবার গনতন্ত্রহীনতার কারনেই একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায় না। সুতরাং গনতন্ত্র এবং সুশাসনের অভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হলে তার দায় রাষ্ট্রের, কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নয়। তাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সকল নাগরিকের দায়িত্ব দেশের মুল সমস্যা বা সংকট চিহ্নিত করে তা নিরসনের জন্য উদ্যোগী হওয়া। ক্ষমতাসীন বা ক্ষমতা বহির্ভুত রাজনৈতিক দল সমুহ স্বাধীনতার চেতনা শুধু মুখে বলার ব্যাপার মনে করলেও স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্যাগ স্বীকারকারী সাধারন মানুষ স্বাধীনতার চেতনাকে তাদের চিত্তে এবং হৃদয়ে ধারন করেছিল এবং ধারন করে আছে। সেখান থেকে বিচ্যুত করার কোন সুযোগ কারও নাই।
১৯৪৭ সালের পুর্বে ভারত ভাগ এবং বাংলা ভাগের বিষয়ে তথ্য সমৃদ্ধ ইতিহাসের আলোচনা করা যেত, কিন্তু তা করা ঠিক হবে না। কারন মুরুব্বীগন যা করে গেছেন তা মেনে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নাই। তবে এটুকু বলা যেতে পারে তাঁদের ভুলের কারনে বাঙ্গালীদের যে ক্ষতি হয়েছে কোন ভাবেই যেন তার পুনরাবৃত্তি না হয়। আমরা জাতিগত ভাবে বাঙ্গালি হলেও নাগরিক হিসাবে বাংলাদেশী। সুতরাং ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সকল নাগরিকের শেষ কথা হওয়া উচিত বাংলাদেশের প্রতি নিঃশর্ত প্রেম ও ভালবাসা। সুতরাং ধর্মীয় বিভেদ নয় বরং ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সকল নাগরিকের ঐক্য সংহত করার মাধ্যমেই বাংলাদেশ পৌঁছাতে পারে তার লক্ষ্যে, হতে পারে পরবর্তী প্রজন্মের বাসযোগ্য একটি দেশ।
এ কথা অনস্বীকার্য্য যে রাজনীতিকগনই ক্ষমতার স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করে যুগে যুগেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার বহু নজির সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানেও দেশে অন্য কোন কারন নয় গনতন্ত্রহীনতার কারনেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। সুতরাং ধর্মীয় বিভেদ নয় বরং গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারই সকল নাগরিকের আশু লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেই ক্ষেত্রে সুশীল সমাজ এবং সচেতন গোষ্টির উচিত দেশে “হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ ” নামের সাম্প্রদায়িক সংগঠনে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করে অসম্প্রদায়িক সংগঠনের রুপ দেওয়া। অন্যদিকে সংখ্যালঘু মন্ত্রনালয় নয় বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মন্ত্রনালয় গঠন করে বাংলাদেশের আবহমান কালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে লালন এবং প্রতিপালনের প্রচেষ্টা নেওয়া।

লেখকঃ- কলামিষ্ট এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here